দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাসে হ্যারড-ডমার গ্রোথ মডেলের সূক্ষ্ম সালোকসংশ্লেষ আর মিহির রক্ষিত মহাশয়ের ডায়নামিক ইকুইলিব্রিয়ামের উন্মাদনার বিভাজনরেখা বরাবর, হঠাৎ, বর্শার মতো এসে গেঁথে গিয়েছিল একটি বই। তখনও প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের রিডিং রুমে হাতে হাতে ঘোরে— 'সাতটি তারার তিমির', 'বিপন্ন বিস্ময়' আর 'কোয়েলের কাছে'; পাশাপাশি। কেবল কবিতাই লিখি তখন, এবং অবসরে মুক্ত গদ্য, নিয়মিত গল্প লেখার আরও কয়েক বছর বাকি।
- Details
[ View more ]
অজস্র শিশির মেখে পড়ে আছে হেমন্তযামিনী
শিশির না সিন্দুর আলতা বিয়ের কালের নাকছাবি
মৃত্যুর সান্নিধ্যে এসে থেমে গেছে বহু বাসনার আকুলতা
সেই সন্তানের জন্য পিছুটান বুকে দুধ আসা
টাইমের ভাত দিতে দেরী হলে জিভে উঠে আসা রক্তস্বাদ
- Details
[ View more ]
বিকেলের ঘাসমাঠে রোদ পা মুছে মিলিয়ে যায়
সূর্যাস্তের আগে আমার পৌঁছনোর কথা ছিল
নিজের গ্রামে
তখনই চিন্তার মধ্যে সেগুন মঞ্জরী ঝরে পড়ে
মনে পড়ে যায় কোন গ্রাম নেই আমার
- Details
[ View more ]
বাতাস,সাদা পোশাকের পুলিস।
যেখানেই থাকি, সে জেনে যাবেই , আর তুলে নিয়ে চলে যাবে লক আপের ভিতর।
বিজন সেই অন্ধ কুঠুরি তে , গুঁড়ি মেরে বসে আছে জলপাই পোশাক আরও আরও বাতাস।
- Details
[ View more ]
আলোর মধ্যে যে দিন কেটেছিল, হলুদ সবুজ রোদ উথলানো গাছেরা
বাতাসের দৌড়, হ্রদের উপর দিয়ে ভেসে যাওয়া ছিন্ন মেঘ
রাত এসে তার উপর পেতে দিচ্ছে নীল রেশম যা এতদিন গুটিয়ে রাখা ছিল
বনস্থলীর অন্ধকারে। দরজা বন্ধ হচ্ছে খুলছে এলো পাথাড়ি যেন ঢাক
- Details
[ View more ]
আমাদের জনারণ্য আজ
একটি জোনাক-জ্বলা গাছ
জ্বলা ও নেভার ছন্দে পথ
কাঁপে, কলরোলে অট্টালিকাগুলি
দুলে ওঠে, আজ আমাদের ভয় নেই
- Details
[ View more ]
আরম্ভেই বলে রাখি, এই গল্প পুরোটা আমার লেখা নয়। যেহেতু গল্পের মানুষটাকে আমি খবরের কাগজ থেকেই পেয়েছিলাম, আর খবরের ছাঁদেই লেখা তার জীবনের গল্প আমি পড়ি, তাই একজন সংবাদনির্মাতাও এই লেখার অংশীদার।
- Details
[ View more ]
এক.
এই নিন, আপনার জন্য এসেছে নতুন সানকি, চেন আর
চামড়া র বকলস। মানুষেরই চামড়া, দেখে নিন।একবার
দেখে কবি নেমে যান নাবাল জমিতে। কচি শসা লিপ্ত হয়ে
আছে লতার ভাষায়, ফিঙে উড়ে চলে যায় রৌদ্রের গহনে।
- Details
[ View more ]
আশ্চর্য এক বিকেল আজ, যখন আকাশে আলো নেই আবার অন্ধকারও না। অবিশ্রাম বর্ষণ চলেছে আজ বহুদিন হল, কত দিন তার সংখ্যাও মনে নেই এখন। যদিও সারা দিন বৃষ্টি পড়ে, এবং বোঝা যায় না কখন থেমেছে, তবু বৃষ্টি পুনরায় আসার আগের মুহূর্তগুলি কেমন যেন নিশ্চুপ, থমথমে। এ আরবসাগর কূলের বর্ষা, বাংলার বর্ষাকালের মত নয়। এখানে মেঘ করে আসা, বজ্রবিদ্যুৎ কোন অনুষঙ্গ থাকে না। ঝিরিঝিরি টুপটাপ ইত্যাদি মৃদুতার কোনও অস্তিস্ত্ব নেই। বৃষ্টি পড়ে মুষল ধারে , কোনও মার্জনা, ভণিতা ছাড়াই। ঝেঁপে যখন সে আসে কোনও বিরতির পর, তখন বহুদূরে গাছেরা মাথা ঝাড়া দিয়ে ওঠে প্রত্যাশায়, হ্রদের উপর দিয়ে ধাবমান বৃষ্টির পদশব্দ শোনা যায়, তারপর হঠাৎই পাখিদের একটানা কান্নার মতন ডাক ভেসে আসে কার্নিশ থেকে, বারান্দার রেলিঙের উপর থেকে, বোঝা যায় ক্রমাগত ভিজে তাদের পালকে, ডানায় আর জল ধারণ ক্ষমতা নেই।
- Details
[ View more ]
পল্লবে ফুলেতে সেজে আমাদের নৌকাটি চলিল
দুয়ারে দাঁড়ায়ে পথ, তারপর সমুদ্র দুস্তর
হুলাহুলি দেয় কেউ ,অশ্রুজলে কারো মন্দ্রস্বর
ও নৌকা কোথা যাও, মাস্তুলে কাঁদে গাংচিল
এই তরণীতে ছিল আমাদের মাণিক্য ভাণ্ডার
নকশী কাঁথা , শস্য , মাটি , কবিতার কল্পদ্রুমটি
বাংলার হাসি কান্না , পৃথিবীর কুহকিনী কথা
আবহমানের ছন্দ, ছিল বিস্ময়ের পারাবার
- Details
[ View more ]